শনিবারের আবহাওয়া পূর্বাভাস (১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬)
আজ শনিবার দুপুর ২ টার পর থেকে রাত ১২ টার মধ্যে ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কোন-কোন স্হানে বিচ্ছিন্ন ভাবে হালকা পরিমানে বৃষ্টির অল্প কিছু সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য ৪ টি বিভাগের উপর বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নাই বললেই চলে।
ঢাকা বিভাগঃ দুপুর ২ টার পর থেকে বিকেল ৬ টার মধ্যে মুন্সিগন্জ, মানিকগন্জ, শরিয়তপুর, মদারিপুর জেলার কোন-কোন উপজেলার উপরে খুব অল্প সময়ের জন্য হালকা পরিমানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগঃ দুপুর ৩ টার পর থেকে রাত ৮ টার মধ্যে কক্সবাজার ও বান্দরবন জেলার কোনো-কোনো স্হানে খুব হলকা পরিমানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বরিশাল বিভাগঃ দুপুর ৩ টার পর থেকে রাত ৮ টার মধ্যে বরগুনা, পটুয়াখালি, ও ভোলা জেলার কোনো-কোনো স্হানে খুব হলকা পরিমানে বৃষ্টির অল্প কিছু সম্ভাবনা রয়েছে।
খুলনা বিভাগঃ দুপুর ৩ টার পর থেকে বিকেল ৬ টার মধ্যে খুলনা, বাগেরহাট জেলার কোন-কোন উপজেলার উপরে খুব অল্প সময়ের জন্য হালকা পরিমানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজশাহী বিভাগঃ বৃষ্টির সম্ভাবনা নাই। বেশিভাগ জেলার উপরে তীব্র গরম আবহাওয়া বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
রংপুর বিভাগঃ বৃষ্টির সম্ভাবনা নাই। বেশিভাগ জেলার উপরে তীব্র গরম আবহাওয়া বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগঃ বৃষ্টির সম্ভাবনা নাই।
সিলেট বিভাগঃ বৃষ্টির সম্ভাবনা নাই।ছবি: ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর (IMD)
২০২৬ সালের বর্ষাকাল পুরোপুরি শেষ হয়ে গেল ১৫ই অক্টোবর, বৃহস্পতিবার
শেষ হলো ২০২৬ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অধ্যায়, শুরু হলো বঙ্গোপসাগরের বর্ষা-পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়প্রবণ সময়।
২০২৬ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে গত বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (India Meteorological Department (IMD)) জানিয়েছে, ১৫ অক্টোবর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারতের সমগ্র স্থলভাগ থেকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার হয়ে গেছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে শুরু হয়েছে বর্ষা-পরবর্তী আবহাওয়ার পর্যায়। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কে আবহাওয়াবিজ্ঞানে বর্ষা-পরবর্তী মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের জন্য এই সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বঙ্গোপসাগরে বছরে প্রধানত দুটি সময়ে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রবণতা বেশি দেখা যায়: বর্ষা শুরুর আগে এবং বর্ষা শেষ হওয়ার পর। বিশেষ করে অক্টোবর ও নভেম্বর মাস বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময়। IMD-এর দীর্ঘমেয়াদি ঘূর্ণিঝড়ের তথ্যেও বর্ষা-পরবর্তী মৌসুমে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির উল্লেখযোগ্য প্রবণতা দেখা যায়।
ফলে এখন থেকে বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহ, অর্থাৎ ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয় কি না, তার ওপর আমি বিশেষভাবে নজর রাখা হচ্ছে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, ঐতিহাসিকভাবে এই সময় বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকার অর্থ এই নয় যে ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই অবশ্যই একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হবে। কোনো নির্দিষ্ট ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সম্ভাবনা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য আগামী কয়েক দিনের বায়ুমণ্ডলীয় ও সামুদ্রিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন আবহাওয়া মডেলের পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করতে হবে।

